বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট রাজপথে সাধারণ মানুষ আমার বাইরে আমার দলের আর কোনো নেতাকে দেখেননি। তাই বলি- ‘যখন তোমার কেউ ছিল না তখন ছিলাম আমি, এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি।’ মূলত আমি কোনো দলের, কোনো গোষ্ঠীর বা কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের আপন হওয়ার দরকার নেই। কারণ আমি আমার মাটির মানুষের আপন। তাদের মুখের দিকে তাকিয়েই আমি আমার জীবনকে বাজি ধরেছি।
তিনি আরও বলেন, জনগণ আমার পাশে আছে বলেই শত প্রতিকূলতার মাঝেও আমি নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি। আমার নির্বাচনে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্য একটাই ৫২-এর ভাষা আন্দোলন কোনো নেতা বা জমিদার করেনি। সেই আন্দোলন করেছিল কিছু ছাত্র ও সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ। যাদের মধ্যে আমার বাবা অন্যতম। তাদের আত্মত্যাগেই ছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনে গণমানুষের দাবি জয়লাভ করেছিল। একইভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল বলেই তখন গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা বিজয় লাভ করেছে। মূলত মানুষ যা চেয়েছে যুগে যুগে কালে কালে তাই হয়েছে। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সবই সাধারণ মানুষের রক্ত দিয়ে তৈরি।
শনিবার রাতে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে তার নিজ বাসভবনের সামনে প্রধান নির্বাচনি অফিস উদ্বোধনকালে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা কিছুদিন আগেও কচুখেতের তলায় ছিল, হ্যাজাক বাতি দিয়েও খুঁজে পাওয়া যেত না- তারাও এখন আমার নেতাকর্মীকে মামলার ভয় দেখায়। ১৫ মাসে এত চর্বি হয়েছে যে, আমার নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়। আমি হুমকি না দিয়ে বিনীতভাবে অনুরোধ করব- আমার একটা নেতাকর্মীর গায়ের একটা পশম ধরার কেউ সাহস করলে তার জবাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী প্রশাসনকেও আমি এক মুহূর্তের জন্য ভয় পাইনি। আর এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ওয়াদা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন। তাই ব্যালট বাক্স ভরে কোনো বিশেষ মার্কাকে জয়ী করার কাজের সুযোগ নাই। তাই কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের গায়ে টোকা দেওয়ার আগে প্রার্থীকে জবাব দিয়ে যেতে হবে।
নির্বাচনি অফিস উদ্বোধন শেষে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবজাল হোসেন, সরাইল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. ওসমান, সরাইল উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেন, শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক জোনায়েদ খানসহ নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া পরিচালনা করেন শাহবাজপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি শহিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। রুমিন ফারহানা এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ-বোরহান হাওলাদার জসিম, বার্তা সম্পাদক,মোঃ ফোরকান কাজী