স্থানীয়দের অভিযোগ: “৫ আগস্টের পর এলাকা একেবারে মগের মুল্লুক—বন কেটে লুটে খাচ্ছে সবাই”
রাতের অন্ধকারে ৪০০–৫০০ গাছ কেটে উজাড়
ফরেস্টার তরিকুল–আক্তার–শরিফের যোগসাজশের অভিযোগ
সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা, ফোন ছিনিয়ে ফুটেজ মুছিয়ে ফেলা
সিনিয়র সাংবাদিক বিপ্লব হোসেন ফারুকের সঙ্গে অসদাচরণ
৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর গাছকাটা আরও বেপরোয়া
স্থানীয়দের দাবি: “রেঞ্জ কর্মকর্তাদের আশীর্বাদ ছাড়া এটা অসম্ভব”
রাতের অন্ধকারে বন উজাড়
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কাচিঘাটা সদর ভিটের মুতাজুরি মৌজায় সংঘবদ্ধ গাছকাটা সিন্ডিকেট গত মঙ্গলবার রাতে প্রায় চার থেকে পাঁচ শতাধিক গাছ কেটে ফেলে। আলমগীর মেম্বারের বাড়ির পাশের বনাঞ্চল করইচালা,তালচালা এলাকায় বনভূমির বড় অংশ অল্প সময়ের মধ্যেই উজাড় হয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনা বন বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ–পরোক্ষ ছত্রছায়ায় ঘটেছে।
এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন—
“অফিস থেকে সহায়তা না থাকলে এত বড় ঘটনা এক রাতে কেউ করতে পারবে না।”
বন বিভাগের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,
ফরেস্ট গার্ড তরিকুল, আক্তার এবং ফরেস্টার শরিফের দীর্ঘদিনের সহযোগিতায় বনখেকো সিন্ডিকেট নিয়মিত গাছ কাটছে। সাম্প্রতিক তাণ্ডবকে তারা ‘এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় লুট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সাংবাদিকদের ওপর হুমকি–ধমকি, ভিডিও মুছে ফেলা
ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে গেলে রেঞ্জ গার্ডের কয়েকজন কর্মী সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা দেন। পরে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণকৃত ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়।
দৈনিক অগ্নি শিখার সিনিয়র সাংবাদিক বিপ্লব হোসেন ফারুক জানান—
“ওরা আমাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেছে। জোর করে ভিডিও ডিলিট করিয়েছে। এভাবে তথ্য গোপন করছে কেন?”
৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর ‘বেপরোয়া লুটপাট’
স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর বনভূমি যেন সবার লুটের খোরাক হয়ে গেছে।
এক যুবক বলেন—
“কে কোন দিক থেকে এসে গাছ কাটছে—তা দেখার কেউ নেই। পুরো এলাকা যেন মগের মুল্লুক।”
পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—
এভাবে এক রাতে শত শত গাছ হারালে—
বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস,
মাটির ক্ষয় বৃদ্ধি,
তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
স্থানীয় জলবায়ু অস্থিতিশীলতা—
তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশকর্মী এবং সাংবাদিক সমাজ অবিলম্বে—
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা,
গাছকাটা সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার,
সাংবাদিকদের ওপর হামলাসদৃশ আচরণের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।