নোটিশ
সম্পাদক মন্ডলীঃ প্রকাশক ও সম্পাদক:মোঃ বোরহান হাওলাদার জসিম বার্তা সম্পাদক মোঃ ফোরকান কাজী
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

মাদক-দখল-চাঁদাবাজি: হাজারীবাগের ‘অঘোষিত গডফাদার’ সাজু-মিজান-রানা চক্র!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৪৭ ০০০.০০ পাঠক বার পড়া হয়েছে
Update : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রাজধানীর হাজারীবাগ থানার চরওয়াশপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই এক আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের দাপটে এলাকার সাধারণ মানুষ তটস্থ। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন সাইজুদ্দিন সাজু, মিতা মিজান ও রানা। জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যাবসা থেকে শুরু করে সংবাদকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের ওপর হামলা—যা এই চক্রের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে । আরও ভীতিকর কারণ হলো তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইজুদ্দিন সাজু দীর্ঘদিন ধরে চরওয়াশপুর ও আশপাশের এলাকায় ভূমিদস্যু চক্রের মূল হোতা হিসেবে সক্রিয়। সরকারি-বেসরকারি জমি জবরদখল, ভুয়া ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং জমি দখলের জন্য স্থানীয়দের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো তার নিত্যদিনের কাজ। এই চক্রের অন্যতম সহযোগী মিতা মিজান মূলত জমি দখলের মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব দেন। গভীর রাতে বাড়িতে হামলা, এলাকা ছাড়ার হুমকি এবং পরিবারকে জিম্মি করে ভয় দেখানোই তার ভয়ংকর কৌশল। অন্যদিকে, রানা এই চক্রের মাঠপর্যায়ের তদারকির কাজ করেন। মাদক ব্যাবসা ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টিরও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এই ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী চক্রের নির্মম হামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের কর্মী। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় অবৈধ আইগ্যাস বিক্রেতা নাছিরের ওপর সংবাদ প্রকাশ করায় এই চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়। এক সংবাদকর্মী জানান, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চক্রের সদস্য মো. আল-আমিন কৌশলে তাকে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ডেকে আনে। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাইজুদ্দিন সাজু, মিতা মিজান ও রানাসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র, ছুরি ও চাপাতির আঘাতে এ সাংবাদিকের হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

হামলাকারীরা শুধু মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, সাংবাদিকের সঙ্গে থাকা একটি ক্যামেরা, দুটি মোবাইল ফোন, বুম মাইক্রোফোন, আইডি কার্ড ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। হামলায় একটি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়, যার ফলে ডিভাইসে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫৫ হাজার টাকা। হামলার পর সন্ত্রাসীরা সাজানো নাটক সাজিয়ে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ে ফেলে রেখে যায় এবং ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক শাফায়েত বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোট ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন—১। মো. আলামিন (৩৪), পিতা-অজ্ঞাত; ২। রানা (৩৪), পিতা-মীরজাহান; ৩। সাইজুদ্দিন সাজু (৫০), পিতা-কালাচাঁন মেম্বার; ৪। মিরাজ (২৮), পিতা-মীরজাহান; ৫। সাকিব (২৮), পিতা-বাবুল; ৬। মিজান (৪৫), পিতা-গোলাম মোস্তফা; ৭। শামীম (৪৬), পিতা-অজ্ঞাত; ৮। আইয়ুব (৫৫), পিতা-ফয়জুল হক এবং ৯। মিতা মিজান (৩৬), পিতা-অজ্ঞাত। সকলের সাং-চরওয়াসপুর, থানা-হাজারীবাগ। মামলা নং-৩৩, তাং ২৮/০১/২০২৬। আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৮৪/৪২৭/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাইজুদ্দিন সাজু, মিতা মিজান ও রানার মতো অপরাধীরা শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে না, বরং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকাবাসী ও সাংবাদিক সমাজ আশা করছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে এবং এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা