• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাজউকের ১,০৭৪ প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ পূর্বাচল ও ঝিলমিলের নথি স্থগিত, তদন্তের আওতায় হাজারের বেশি প্লট—বর্তমান চেয়ারম্যানের কাছে জবাবদিহির দাবি মানহীন ওষুধের অভিযোগে ঔষধ প্রশাসনে রহস্যজনক নীরবতা! মহাপরিচালকের পিএসের ‘ফেক নিউজ’ মন্তব্য, মুখপাত্রের কাছে বক্তব্য নেওয়ার পরামর্শ—জনস্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন কারসাজিতে জড়িত তিন পক্ষই এক ব্যাংক থেকে ৮৫ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে আরেক ব্যাংকের মাধ্যমে বিল উত্তোলন ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: বিএলআরআইয়ের পিডি সাজেদুলকে ঘিরে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন ফেলোশিপে স্ত্রীর সুবিধা, দরপত্র ছাড়া কাজ বণ্টন ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি কাঁঠালিয়ায় তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে মামলা দেওয়ার হুমকি! পিআইও জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, বাড়ছে উদ্বেগ ২০১৮–২০১৯ সালের সংবাদ প্রকাশের জের? গাজীপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ—পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি Cosa cambia nel 2024 per i limiti di deposito settimanali su baxterbet casino বিজয়নগরে মাদক কারবারের অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন, আলোচনায় রুবেল খান ও মানিক মিয়া সিঙ্গারবিলের নলমুনিয়ায় মাদক সরবরাহের অভিযোগ, বিভিন্ন থানায় মামলা থাকার দাবি রুবেল খানের বিরুদ্ধে—নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
Update : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে পদোন্নতি, সম্পদ অর্জন, সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার এবং রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একদিনে চারটি পদোন্নতির মাধ্যমে সচিব হওয়ার ঘটনাটি তাঁর প্রশাসনিক উত্থান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকায় একাধিক ভবনের নির্মাণবিধি অনুসরণ, অনুমোদিত নকশা বাস্তবায়ন এবং অকুপেন্সি সনদ গ্রহণের বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে ওঠে। এই বলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি-পদায়ন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ, ডেভেলপার ব্যবসা এবং সম্পদ অর্জনে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। ঢাকা, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাইরে কুমিল্লার বুড়িচং এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার দাবিও সামনে এসেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, ভবনের অনুমোদিত নকশা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা জরুরি।

একদিনে চার পদোন্নতি: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নিজেকে বৈষম্যের শিকার হিসেবে উপস্থাপনের পর নজরুল ইসলাম একদিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন। তাঁর শিক্ষাজীবন, বিসিএস ক্যাডারে যোগদান এবং প্রশাসনিক পদোন্নতির ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

এ ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হলো, পদোন্নতির প্রতিটি ধাপে কোন পদ, গ্রেড ও প্রশাসনিক মর্যাদা পরিবর্তিত হয়েছিল? সংশ্লিষ্ট আদেশগুলো একই দিনে জারি হয়েছিল কি না? পদোন্নতিগুলো কোন বিধি, সুপারিশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল?

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে সভা ও মিলনমেলার আয়োজন করা হতো। এসব অনুষ্ঠানের অনুমোদন, সংগঠনগুলোর নিবন্ধন এবং সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

কথিত ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরে নিয়োগ, প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিযোগকারী। তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এ পরিচয় কিংবা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি প্রকাশ্যে যাচাই করা যায়নি।

তোফায়েলের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং নিয়োগের শর্তের মধ্যে অসংগতি ছিল। বিষয়টি যাচাই করতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, শিক্ষাগত সনদ, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ এবং অনুমোদনপত্র পরীক্ষা করা জরুরি।

এ ছাড়া তাঁর ছোট ভাই হাবিবুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয়, কথিত কর্মকাণ্ড এবং অতীতের একটি হত্যাকাণ্ডের মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য নথি বা সংশ্লিষ্ট মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়া কাউকে অপরাধে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।

শিক্ষা ভবনের কর্মচারীর পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মচারী হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদের পদোন্নতি, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি ও পদায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনের সময় ঘুষের বিনিময়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত তাঁর এক আত্মীয়ের সহায়তায় কবির আহমেদ সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হন। এ ছাড়া তাঁকে নিজ উপজেলা বুড়িচংয়ে পদায়ন এবং অন্য কর্মকর্তা মান্নানকে অন্যত্র বদলি করার পেছনেও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ যাচাইয়ে চাকরিতে প্রবেশের যোগ্যতা, পদ সৃষ্টির অনুমোদন, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ, বদলি-পদায়নের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুপারিশ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নথি যাচাই ছাড়া ঘুষের অভিযোগকে প্রমাণিত বলা যাবে না।

তুষারধারায় ২৪ কাঠা জমির ভবন: রাজউকের নকশা অনুসরণ করা হয়েছে কি?

রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের তুষারধারা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরে ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বহুতল ভবন নিয়ে অভিযোগকারীরা বিশেষভাবে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, ভবনটির সঙ্গে সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির নির্মাণে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), সেটব্যাক এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। নির্মাণাধীন অবস্থায় ভবনটি ব্যবহার শুরু করার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

ভবনটির মালিকানা ও অংশীদারত্ব, জমির দলিল, রাজউকের অনুমোদিত নকশা, সংশোধিত নকশা, নির্মাণ পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং অকুপেন্সি সনদ যাচাই করলেই এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব। অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণে অমিল থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার: ২০২২ সালের অভিযানের পর কী ঘটেছিল?

তুষারধারার ৯ নম্বর সেক্টরে বায়তুশ শরীয়ত মসজিদের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার’ নিয়েও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২২ সালে রাজউক ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে কিছু অংশ ভেঙে দেয় এবং মুচলেকা নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করে। তাঁদের দাবি, পরবর্তী সময়ে ভবনটির নির্মাণকাজ আবার সম্পন্ন হয় এবং অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই ব্যবহার শুরু করা হয়।

তবে অভিযানের পরবর্তী অবস্থা, নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর অনুমোদন এবং ভবনটির বর্তমান আইনি অবস্থান সরকারি নথি ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাজউকের অভিযান প্রতিবেদন, মুচলেকা, পরবর্তী পরিদর্শন এবং অকুপেন্সি সনদসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।

মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট: পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগ

তুষারধারা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সেক্টরের ‘মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট’ নিয়েও মালিকানা বিরোধ ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর আবু সেলিম ও মো. শাহাজাহান ২০১৭ সাল থেকে ভবনটির বিষয়ে রাজউক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দিয়ে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ ও ২০২২ সালে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা ও মুচলেকার ঘটনা ঘটে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া ফ্ল্যাট বিক্রির পর কাগজপত্র পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। এসব দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ফ্ল্যাটের দলিল, নিবন্ধন নথি, অনুমোদিত নকশা, রাজউকের পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং দুদকে দাখিল করা অভিযোগের মূল কপি পর্যালোচনা করা জরুরি।

সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন

নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যদুপুর গ্রামের ওমর ফারুককে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বরাদ্দটি নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারি আবাসন বরাদ্দের বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চাকরির পদ, যোগ্যতা, প্রাপ্যতা, বরাদ্দের নীতিমালা, আবেদনপত্র এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

সম্পদ অর্জন, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক লেনদেনের অনুসন্ধান দাবি

অভিযোগকারীরা রফিক, তোফায়েল, মুমিন, হাবিবসহ কয়েকজনকে নজরুল ইসলামের কথিত ঘনিষ্ঠ বলয়ের সুবিধাভোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচং এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।

অভিযোগে মুমিনের নিয়োগ, সম্পদ অর্জন, বিভিন্ন এলাকায় প্লটের মালিকানা, স্কুল ও হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালক পদে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় সিস্টেম অ্যানালিস্ট শাহিনের নামও এসেছে।

এ ছাড়া কাজী মামন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফ্ল্যাটের মালিকানা, অবৈধ দখল, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদারি কাজের তদবিরে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের কোনোটিই কেবল বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন, জমির দলিল, কোম্পানির শেয়ার, প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, চাকরির আয় এবং আর্থিক লেনদেনের নথি পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব।

যেসব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নাম এসেছে

অভিযোগকারীদের দেওয়া তালিকায় কনটেক ডেভেলপার, ওয়ানল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি ডেভেলপার কার্যক্রম, সম্পদ অর্জন অথবা বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কিছু প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

তবে তালিকাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, পরিচালনা পর্ষদ, মালিকানা, আর্থিক লেনদেন, কর-সংক্রান্ত নথি এবং ভবন নির্মাণের অনুমোদন আলাদাভাবে যাচাই করা দরকার।

মন্ত্রণালয়, রাজউক ও দুদকের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি পদোন্নতি থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণ, সরকারি আবাসন বরাদ্দ, নিয়োগ-পদায়ন এবং সম্পদ অর্জন—প্রতিটি বিষয়ের পেছনে থাকা নথি পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।

এ ক্ষেত্রে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে—

১. নজরুল ইসলামের পদোন্নতির আদেশ, তারিখ ও প্রশাসনিক ভিত্তি যাচাই।

২. তুষারধারার ১০ নম্বর সেক্টরের ভবন, ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার ও মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা, অনুমোদিত নকশা, বাস্তব নির্মাণ এবং অকুপেন্সি সনদ পরীক্ষা।

৩. ২০২২ সালের রাজউক অভিযানের পর ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়ে থাকলে তার অনুমোদন ও আইনগত ভিত্তি যাচাই।

৪. মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২২ সালের অভিযোগ, জরিমানা, মুচলেকা এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা।

৫. কবির আহমেদের নিয়োগ, রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি, পদোন্নতি ও বদলি-পদায়নের বৈধতা পরীক্ষা।

৬. ওমর ফারুকের সরকারি আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই।

৭. সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ অর্জনের উৎস, মালিকানা, আর্থিক লেনদেন এবং সরকারি আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য পরীক্ষা।

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের নিষ্পত্তি হোক নথি ও নিরপেক্ষ তদন্তে

একজন সরকারি কর্মকর্তার পদোন্নতি, সম্পদ অর্জন কিংবা ভবনের মালিকানা নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ নয়। একইভাবে, অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। তবে সরকারি দায়িত্বে থাকা বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে ঘিরে অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ উঠলে সেগুলো নথিভিত্তিকভাবে যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

সাবেক সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজন একই ধরনের নিরপেক্ষতা। পদোন্নতির আদেশ, সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, ভবনের অনুমোদিত নকশা, নিয়োগ ও বদলি-পদায়নের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করতে হবে।

জনস্বার্থে প্রশ্ন এখন একটাই—অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি? তুষারধারার ভবনগুলোতে নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই, পদোন্নতি ও নিয়োগের প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা এবং সম্পদ অর্জনের উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তা জানতে চান অভিযোগকারীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত........

ফেসবুকে আমরা