ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
✈️ রানওয়ের কাছে আঘাত, ফ্লাইট ঘুরিয়ে দেওয়া
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলার একটি ক্ষেপণাস্ত্র এডেন বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছাকাছি গিয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটে কায়রো থেকে আসা একটি ফ্লাইট অবতরণের কয়েক মিনিট আগে।
নিরাপত্তার কারণে ফ্লাইটটির অবতরণ বাতিল করে জেদ্দার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। রানওয়েতে থাকা আরও দুটি বিমানকেও সম্ভাব্য দ্বিতীয় হামলার আশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরে থাকা মানুষের জন্য অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পথ। ফলে বিমানবন্দরে হামলা দেশটির বেসামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
🚀 হুথিদের হামলার দাবি
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও বিমানবন্দরেও হামলার দাবি করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা বিমানবন্দর এবং কাহমিস মুশাইত এলাকার সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ দেয়নি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা রিয়াদের উত্তরে একটি হুথি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
🇸🇦 সৌদি আরবও সরাসরি সংঘাতে
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সম্প্রতি পশ্চিম ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে।
এই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের দখল করা কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখলের চেষ্টা করছে সরকারি বাহিনী। এর ফলে কয়েকটি ফ্রন্টে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।
🚢 কেন বাব আল-মান্দাব এত গুরুত্বপূর্ণ?
বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইউরোপ-এশিয়া বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
⚔️ ১২ বছরের পুরোনো যুদ্ধ ফের তীব্র
ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাত দীর্ঘদিনের। হুথিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটা কমে এলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে।
🏥 মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা
নতুন করে যুদ্ধ তীব্র হওয়ায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইয়েমেনে এক লাখ ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও ব্যাপক চাপে রয়েছে।
🔎 আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ
এডেন বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা এবং সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবির ফলে সংঘাতটি ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বড় আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—জ্বালানি পরিবহন, নৌবাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।